সার্টিফিকেটের আত্মহত্যা -শেখ সোহেল রানা

সার্টিফিকেটের আত্মহত্যা- শেখ সোহেল রানা

একটি সার্টিফিকেট বিক্রি হবে
কেউ কি নিবেন ?
কত দাম চাও ? বললেন এক ক্রেতা
আমি বললাম যৎসামান্য যা দেবেন ?

তিনি বললেন সনদগুলো বেশ দামি দেখছি
কেন বেচবে বলো ? এতো কলার পাতা
ক্যামনে দামি হলো ?

ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট পেয়েছিলাম
তাই আল্লাদে মহাখুশি,
ভেবেছিলাম সনদগুলো দিয়ে
ফুটবে মুখে হাসি!

হাজার কষ্টে অর্জন করেছি
সনদ এক ঘাড়ি
কে জানতো ? তার বদলে,
টাকা লাগবে এক কাড়ি ?

দুঃখিনী মা ভেবেছিলো
সনদগুলোই সব,
আমায় নিয়ে দেখতেন তারা
দিবারাত্রি খব !!

মায়ের নোলক বিক্রির টাকায়
হলো ফরম ফিলাপ
ভেবেছিলাম সার্টিফিকেট পেলেই
দূর হবে সব দুঃখ বিলাপ !

বাবা ছিলেন দিন মুজুর
পরের জমিতে খেটে,
দিন শেষে বাজার করতে
খালিপায়ে যেতেন হেঁটে !

দু-চার টাকা বাঁচিয়ে
কিনে আনতেন খাতা,
আমারে দিতেন মাছের মুড়া
তাঁরা খেতেন শাকপাতা!

হালের বলদ বিক্রি করে
দিলেন লেখাপড়ার টাকা,
হাজারো স্মৃতি এমন করে..
বেদনায় পড়ে ঢাকা।

আজ বেঁচে নেই বাবা
পাইনি ভালো কর্ম,
গ্রাজুয়েট হয়ে রাস্তায় ঘুরি
উঠে যায় পিঠের চর্ম !

সার্টিফিকেটগুলো অর্জন করেছিলাম অনেক কষ্ট করে,
বেঁচবো সস্তা দামে
গরীবের কাজে না লাগলেও
লাগবে ধনীর কামে।

গরীবের এটা দিয়ে লাভ কী হবে
চাকরি নেই ঘরে ঘরে;
শিক্ষিত এখন পথে ঘাটে
সার্টিফিকেট সবার তরে।

ভূয়া সনদের কথা বাদই দিলাম
আসলের কথাই বলি-
শিক্ষিত বলতে লজ্জা পাই এখন
তাই মুখ লুকিয়ে চলি।

কসাই সাজে ডাক্তার বাবু
ব’কলম হয় বিজ্ঞানী
মূর্খ লোকে রাজা সাজে ,
জ্ঞাণীকে বলে অজ্ঞানী।

উপরী পাওনা ঘুষের টাকা
মামা খালুর জোরে
ক্লাসের লাস্ট বন্ধু আমার
শিক্ষকতার চাকরি করে!

এই সনদ দেয়না মোরে
এক প্লেট ভাত
যাকে পেতে জেগে ছিলাম
রাতের পর রাত!

দিতে পারিনা মায়ের নোলক
বোনের সখের চুড়ি
বাবার জন্য গামছা চশমা
ভাইয়ের জন্য ঘড়ি!

তাই সবই বেঁচে দেবো..
নিলামে তুলেছি শিক্ষা
যা শিখেছি ভুল শিখেছি
ভুল ছিল মোর দিক্ষা !!

যদি সার্টিফিকেট দরকার হয়
খুঁজবেন ডাস্টবিনে,
ছুঁড়ে ফেলে গেছে কেহ স্বপ্নের সনদ
দুঃখ ভরা মনে।

যে জাতি পায়না শিক্ষার মূল্যায়ন
সার্টিফিকেটে কি লাভ-
হাজার গ্রাজুয়েটের ভাঙা স্বপ্নে
শুনাই অশ্রুবিলাপ।

রচয়িতা- শেখ সোহেল রানা।

ধুনট, বগুড়া।